বৃহস্পতিবার, জুন ১, ২০২৩
প্রচ্ছদসাধারণ জ্ঞানআকাশ মহাকাশ সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

আকাশ মহাকাশ সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

- Advertisement -

আকাশ মহাকাশ সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিয়ে নিচে আলোচনা করা হলো।  আপনারা যারা বিভিন্ন প্রতিযোগিতামুলক পরীক্ষায় (বিসিএস, বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি, ব্যাংক চাকরী প্রস্তুতি, প্রাইমারি শিক্ষক, এনটিআরসিএ চাকরী প্রস্তুতি ইত্যাদি) অংশ গ্রহণ করছেন, তাদের জন্য লেখাটি খুবই সহায়ক হবে।

পৃথিবী শেষ হওয়ার বার্তা দেবে গ্রহ

আমাদের সৌরজগতের বাইরে একটি গ্রহ কেপলার-১৬৫৮বি। সৌরজগৎ থেকে ২৬২৯ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত গ্যাসীয় দানব গ্রহটি কেপলার-১৬৫৮ (KOI-4) নামে একটি এফ টাইপ নক্ষত্রকে পরিক্রমণ করে চলেছে। ২৪ ডিসেম্বর ২০২২ কেপলার-১৬৫৮বি গ্রহটির মৃত্যুমুখে ছুটে চলার খবর প্রকাশিত হয়। আমাদের প্রতিবেশী বৃহস্পতির মতো বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন গ্রহটি তীব্র গতিতে এখন ছুটে চলেছে তার নক্ষত্রের দিকে।

আগামী কয়েক হাজার বছরের মধ্যে নক্ষত্রটি গ্রাস করে নেবে কেপলার-১৬৫৮বি গ্রহকে। ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে নাসার কেপলার মিশনের জ্যোতির্বিজ্ঞানী অ্যাসলে চন্তোস কেপলার-১৬৫৮বি গ্রহটি আবিষ্কার করেন। আমাদের সূর্যের সবচেয়ে কাছের গ্রহ বুধের যা দূরত্ব, কেপলার-১৬৫৮-বি এবং তার নক্ষত্রের মধ্যকার দূরত্ব তার চেয়ে আট গুণ কম।

গ্রহটি তার নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করে পৃথিবীর তিন দিনেরও কম সময়ে। আশঙ্কার বিষয় হলো, ওই নক্ষত্র এবং কেপলার-১৬৫৮বি-এর মধ্যকার দূরত্ব দিন দিন কমে আসছে।

- Advertisement -

আরো পড়ুন : সাধারণ জ্ঞান আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী প্রশ্নোত্তর

অর্থাৎ গ্রহটি তীব্র গতিতে এখন ছুটে চলেছে তার নক্ষত্রে বিলিন হওয়ার জন্য। নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করতে এখন গ্রহটি বছরে প্রায় ১৩১ মিলিসেকেন্ড করে কম সময় নিচ্ছে। নক্ষত্রগুলোর সঙ্গে থাকা তাদের গ্রহগুলো পৃথিবীর শেষ কেমন হবে সে বিষয়ে ধারণা দিতে পারে ।

২০২৩ সালে চারটি গ্রহণ

জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী ২০২৩ সালে মোট চারটি গ্রহণ ঘটবে। এর মধ্যে দুটি সূর্যগ্রহণ এবং দুটি চন্দ্রগ্রহণ ।

চন্দ্রগ্রহণ » বছরের প্রথম চন্দ্রগ্রহণ ৫ মে, শুক্রবার (রাত ৯.১৫- ১.১৫)। এটি উপচ্ছায়া চন্দ্রগ্রহণ হবে। বছরের দ্বিতীয় চন্দ্ৰগ্ৰহণ ঘটবে ২৯ অক্টোবর, রবিবার (রাত ১.৩৬-২.৫২)।

সূর্যগ্রহণ » বছরের প্রথম সূর্যগ্রহণ ২০ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার (সকাল ৭.৩০-১.০০)। এ গ্রহণ বাংলাদেশ থেকে দেখা যাবে। বছরের দ্বিতীয় সূর্যগ্রহণ ঘটবে ১৪ অক্টোবর, শনিবার।

২০০ গ্রহের সন্ধান

মহাকাশ বিজ্ঞানীরা ২০২২ সালে আমাদের সৌরজগতের বাইরে ২০০ নতুন গ্রহ আবিষ্কার করেন। মহাকাশ বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে এটি বড় ধরনের আবিষ্কার। ২০২২ সালের শুরুতে সৌরজগতের বাইরে আবিষ্কৃত গ্রহের সংখ্যা ছিল ৫,০০০-এর কম। কিন্তু বছরের শেষ দিকে এ সংখ্যা দাঁড়ায় ৫,২৩৫টিতে। এসব গ্রহের মধ্যে ৪% পৃথিবী ও মঙ্গলের মতো পাথুরে।

- Advertisement -

আরো পড়ুন : ভাষা আন্দোলন সম্পর্কিত সাধারণ জ্ঞান প্রশ্নোত্তর

আমাদের সৌরজগতের বাইরে গ্রহ বা এক্সপ্ল্যানেট আবিষ্কারের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রেখেছে নাসার জেমস ওয়েব মহাকাশ টেলিস্কোপ। হাবল টেলিস্কোপের পর মহাকাশে পাঠানো সবচেয়ে শক্তিশালী টেলিস্কোপ এটি। তবে হাবল টেলিস্কোপটি এখন সক্রিয় রয়েছে। এ টেলিস্কোপ থেকেও নতুন নতুন তথ্য পাচ্ছেন গবেষকেরা।

পৃথিবীর মতোই আরেক পৃথিবী

পৃথিবীর মতোই আরেকটি সম্ভাব্য বাসযোগ্য গ্রহের সন্ধান পাওয়ার দাবি করেন যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা NASA’র বিজ্ঞানীরা। তাদের মতে, নতুন এ গ্রহ পৃথিবী থেকে মাত্র ১০০ আলোকবর্ষ দূরে। ‘TOI700e’ নামে গ্রহটি সম্ভবত পাথুরে এবং আমাদের পৃথিবীর আকারের ৯৫%।

নাসার ট্রেনিং এক্সপ্ল্যানেট সার্ভে (TES) স্যাটেলাইট মিশনে পৃথিবীর আকৃতির এ গ্রহটি ‘TOI700’ নামের একটি নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করার চিত্র ধরা পড়ে। ২০২০ সালে পৃথিবীর আকারের এরকম আরেকটি গ্রহ আবিষ্কৃত হয়, যা ‘TOI700d’ নামে পরিচিত । বিজ্ঞানীরা জানান, TOI700 নামের নক্ষত্রটিকে প্রদক্ষিণরত উভয় গ্রহ এমন দূরত্ব থেকে প্রদক্ষিণ করছে, যা ঐ সৌরমণ্ডলের বাসযোগ্য অঞ্চল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

৫০,০০০ বছর পর ফিরে আসছে সেই ধূমকেতু

৭ জানুয়ারি ২০২৩ যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মহাকাশবিষয়ক জরিপ সংস্থা জুইকি ট্রানজিয়েন্ট ফ্যাসিলিটির জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানান আবার সবুজাভ আলোর ধূমকেতুর ঝটিকা সফর দেখবে বিশ্ব। ৫০,০০০ বছর আগেও একবার পৃথিবীতে আসে ‘সি/২০২২ ইত’ (ZTF) নামের এ ধূমকেতু, যা খালি চোখে দেখতে পারবে মানুষ। জুইকি ট্রানজিয়েন্ট ফ্যাসিলিটির জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা ২০২২ সালের মার্চে এ ধূমকেতুর সন্ধান পান।

- Advertisement -

আরো পড়ুন : ২০২২ সালের বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী থেকে আলোচিত ঘটনা

সৌরজগতের বরফের সীমানা অতিক্রমের পর এটি ১২ জানুয়ারি ২০২৩ সূর্যের সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থান করে। ১ ফেব্রুয়ারি পৃথিবীর সবচেয়ে কাছে থাকবে। ১ ফেব্রুয়ারি-১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ধূমকেতুটি যখন মঙ্গলগ্রহ অতিক্রম করবে, তখনো এটি দেখার সুযোগ পাওয়া যাবে। ধূমকেতুটির ব্যাস প্রায় এক কিলোমিটার হতে পারে। এর আগে ২০২০ সালে খালি চোখে দেখা যাওয়া নিউওয়াইজ নামের ধূমকেতুটির চেয়ে এটি অনেক ছোট।

এছাড়া ১৯৯৭ সালে ৬০ কিমি ব্যাসের হেল-বপ ধূমকেতু সবচেয়ে বেশি। দৃশ্যমান হয়, যা মানুষ খালি চোখে দেখতে পায়। ধূমকেতুটি উর্ট ক্লাউড নামের একটি এলাকা থেকে এসেছে । উর্ট ক্লাউড মূলত, সৌরজগতের চারপাশে বিশাল গোলক, যেখানে রহস্যময় বরফের বস্তুর অবস্থান রয়েছে বলে ধারণা করা হয় ।

- Advertisement -
Preparation BD
Preparation BD
Preparation.com.bd বাংলাদেশের শিক্ষা বিষয়ক একটি বাংলা কমিউনিটি ব্লগ সাইট। Preparation.com.bd এর অন্যতম উদ্দেশ্য হল বাংলাদেশের সকল স্তরের শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটি সম্প্রদায় তৈরি করা এবং শিক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সেবা নিশ্চিত করা এবং সমস্যা সমাধান করা।
এই বিভাগ থেকে আরো পড়ুন

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

সর্বাধিক পঠিত

সর্বশেষ মন্তব্য